বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে রেকর্ড উত্থান জল্পনাভিত্তিক বিনিয়োগের কারণে নয়, বরং প্রকৃত চাহিদার প্রতিফলন। এমনকি মূল্যবান ধাতুটির দামের বর্তমান উল্লম্ফন ১৯৭০ দশকের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের এক বিশ্লেষক। খবর বিজনেস ইনসাইডার ও রয়টার্স।
গোল্ডম্যান স্যাকসের রিসার্চ অ্যানালিস্ট লিনা থমাস বলেন, ‘স্বর্ণের দামের এ উত্থান কোনো জল্পনা নয়, এটি মূলত মৌলিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করছে। বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখনো রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ ক্রয় করছে। আর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমানোর পর ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন উল্লেখযোগ্য হারে।’
বিনিয়োগ ব্যাংকটি জানায়, বিশ্ববাজারে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ, যা ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্থান হতে পারে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে মূল্যবান ধাতুটির দামে এ উল্লম্ফন দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গোল্ডম্যান স্যাকস চলতি মাসের শুরুর দিকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফে শক্তিশালী প্রবাহ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে এ পূর্বাভাস সংশোধনের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা।
থমাস বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় স্বর্ণের দাম আরো বাড়বে। কারণ ভূরাজনৈতিক অথবা অর্থনৈতিক যেকোনো অস্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের কাছে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা দ্রুত বাড়ে।’
এর আগে ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিকসন ব্রেটন উডস মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বাতিল করার পর স্বর্ণের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি তেলের সংকট এবং স্নায়ুযুদ্ধসংক্রান্ত অস্থিতিশীলতাও সে সময় ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী ও ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা রে ডালিও চলতি মাসের এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে বলেন, ‘বর্তমান স্বর্ণের দামের উত্থান ও শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধি ১৯৭০-এর দশকের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি।’
অন্যদিকে জেপি মরগ্যান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন বলেন, ‘বর্তমান সময়ে স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘‘আংশিকভাবে’’ যৌক্তিক সময়।’
এদিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের গড় মূল্য ২০২৫ সালে আরো বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ সময় মূল্যবান ধাতুটির গড় দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩৫৫ ডলার হতে পারে, এর আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৩ হাজার ২১৫ ডলার।
এইচএসবিসি বলছে, স্বর্ণের মৌলিক চাহিদা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৬ সালে বিভিন্ন দেশের সরকারি ক্রয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের কারণে স্বর্ণের দাম আরো বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯৫০ ডলারে, আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৩ হাজার ১২৫ ডলার।